সাপ্তাহিক দর কমার শীর্ষে আশুগঞ্জ পাওয়ারের বন্ড

বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) বন্ডের ইউনিট দর গত সপ্তাহে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে।

বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) বন্ডের ইউনিট দর গত সপ্তাহে ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে বন্ডটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছ ৩ হাজার ৬৭ টাকা ৮০ পয়সায়, এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৪ হাজার ১০০ টাকা। এতে বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।

সাত বছরের জন্য বন্ড ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল আশুগঞ্জ পাওয়ার। বন্ড ইস্যুর সময় কোম্পানিটি জানিয়েছিল চতুর্থ বছর থেকে ২৫ শতাংশ হারে বন্ডের মূল অর্থ ফেরত দেয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে গত বছর প্রথম ধাপে বন্ডের ২৫ শতাংশ অবসায়ন হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয় ধাপে আরো ২৫ শতাংশ অবসায়নের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

তথ্যানুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই দ্বিতীয় ধাপে বন্ডের ২৫ শতাংশ অবসায়ন শুরু হবে। এক্ষেত্রে বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বন্ডটির ২ লাখ ইউনিট অবসায়ন হবে যার মোট মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এর আগে গত বছর ৩ হাজার ৭৫০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ লাখ ইউনিট বন্ড অবসায়ন করা হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ৭৫ কোটি টাকা। একইভাবে তৃতীয় ধাপে গিয়ে অবসায়নের সময় বন্ডটির অভিহিত মূল্য হবে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং চতুর্থ ধাপে গিয়ে পুরোটাই অবসায়ন হয়ে যাবে।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর পঞ্চম বছরের দ্বিতীয় অর্ধবার্ষিকে (২০২৪ সালের ৫ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) বন্ডহোল্ডারদের জন্য ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কুপন রেট ঘোষণা করেছে এপিএসসিএল নন-কনভার্টেবল অ্যান্ড ফুললি রিডিমেবল কুপন বেয়ারিং বন্ডের ট্রাস্টি। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ৪ জানুয়ারি।

২০১৯ সালের নভেম্বরে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করে এপিএসসিএল। উত্তোলিত অর্থের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন ও পূর্ত কাজের জন্য ৪৬ কোটি ৮০ লাখ, প্রাথমিক জ্বালানি কেনায় ৩০ কোটি, যানবাহন ক্রয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ, প্রকৌশল ও পরামর্শক সেবার জন্য ৪ কোটি ৪০ লাখ, চলতি মূলধন বাবদ ১০ কোটি ৯৯ লাখ এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) খরচ খাতে ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। আইপিওর বাইরে সে সময় প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে আরো ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি।

প্রতিটি ৫ হাজার টাকা ইস্যু মূল্যের ২ লাখ নন-কনভার্টেবল ফুললি রিডিমেবল কুপন বিয়ারিং বন্ড আইপিওর মাধ্যমে ইস্যুর করে এপিএসসিএল। ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারের সঙ্গে ৪ শতাংশ মার্জিন যোগ করে এপিএসসিএল বন্ডের বার্ষিক কুপন সুদহার নির্ধারিত হবে। এর পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। এ কুপন অর্ধবার্ষিক মেয়াদে প্রদেয়। আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ১টি বন্ড বরাদ্দ ছিল। আইপিওতে আসার পর প্রথম তিন বছর বিনিয়োগকারীরা ট্রেজারি বিলের সুদহারের সঙ্গে মার্জিনযুক্ত হারে লভ্যাংশ পাবেন। আর চতুর্থ বছর থেকে লভ্যাংশের পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেয়া শুরু হবে। এর মধ্যে চতুর্থ বছরে ২৫ শতাংশ, পঞ্চম বছরে ২৫ শতাংশ, ষষ্ঠ বছরে ২৫ শতাংশ এবং সপ্তম বছরে ২৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেয়া হবে। আর সপ্তম বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধের পর বন্ডটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এ বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত অন্যান্য সিকিউরিটিজের মতোই লেনদেনযোগ্য।

আরও